বর্তমান সময়ে গিফট দেওয়া মানেই শুধু একটি জিনিস দেওয়া নয়, বরং অনুভূতি, যত্ন আর ভালোবাসা প্রকাশ করা। সেই জায়গা থেকেই গিফট বাক্স আজ ১৫–৩০ বছরের তরুণদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি উপহার আইডিয়া হয়ে উঠেছে। জন্মদিন হোক, ভালোবাসা দিবস কিংবা হঠাৎ কাউকে চমকে দেওয়ার ইচ্ছা একটি সুন্দর গিফট বাক্স সবসময়ই কাজের।
গিফট বাক্স কী?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, গিফট বাক্স হলো একটি সাজানো বাক্স যেখানে এক বা একাধিক উপহার সুন্দরভাবে প্যাকেজ করে দেওয়া হয়। এটি হতে পারে চকলেট, পারফিউম, স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট, নোটবুক, ঘড়ি বা ছোট ছোট সারপ্রাইজ আইটেমের সমন্বয়।
আজকাল শুধু “কি দিচ্ছেন” সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কিভাবে দিচ্ছেন। এই বিষয়টাই গিফট বাক্সকে আলাদা করে তোলে।
কেন গিফট বাক্স এত জনপ্রিয়?
গিফট বাক্স জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কয়েকটি সহজ কিন্তু শক্ত কারণ আছে:
- একসাথে একাধিক আইটেম দেওয়া যায়
- দেখতে সুন্দর ও প্রিমিয়াম ফিল দেয়
- ছবি ও রিল বানানোর জন্য পারফেক্ট
- গিফট বাছাইয়ের ঝামেলা কমে যায়
- ছেলে-মেয়ে সবার জন্য মানানসই
বিশেষ করে বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম এখন এমন গিফট পছন্দ করে যেটা ইন্সটাগ্রাম-ফ্রেন্ডলি এবং পার্সোনাল টাচযুক্ত।
গিফট বাক্সের প্রধান প্রকারভেদ ?
সব গিফট বাক্স একরকম হয় না। গিফট দেওয়ার আগে যদি আপনি শুধু “একটা গিফট বাক্স” কিনে ফেলেন, তাহলে অনেক সময় সেটি প্রাপকের জন্য পুরোপুরি মানানসই নাও হতে পারে। বাস্তবে একটি ভালো গিফট বাক্স বেছে নিতে হলে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
১) আপনার বাজেট,
২) যে উপলক্ষে গিফট দিচ্ছেন,
৩) যাকে গিফট দিচ্ছেন তার বয়স, রুচি ও সম্পর্ক।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই গিফট বাক্সকে কয়েকটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়।
প্রিমিয়াম গিফট বাক্স কি ?
প্রিমিয়াম গিফট বাক্স মূলত তখনই ব্যবহার করা হয়, যখন আপনি কাউকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে চান। এই ধরনের গিফট বাক্স দেখতে হয় খুব পরিপাটি, ভারী ও লাক্সারি ফিলের। সাধারণত শক্ত হার্ড বক্স, ম্যাগনেট লক, উন্নত মানের রিবন ও পরিপাটি ইনসাইড লেআউট ব্যবহার করা হয়।
এই গিফট বাক্সে যেসব আইটেম থাকে, সেগুলোও সাধারণত ভালো মানের বা ব্র্যান্ডেড হয়। যেমন ভালো পারফিউম, প্রিমিয়াম চকলেট, ঘড়ি, ওয়ালেট বা স্কিন কেয়ার আইটেম। তাই এই ধরনের গিফট বাক্সের দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি হয়।
প্রিমিয়াম গিফট বাক্স দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাপকের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া সে আপনার কাছে সত্যিই স্পেশাল।
উপযুক্ত যাদের জন্য:
প্রেমিক বা প্রেমিকা, খুব স্পেশাল জন্মদিন, এনিভার্সারি, সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বাজেট-ফ্রেন্ডলি গিফট বাক্স কি ?
সব সময় গিফট মানেই বড় বাজেট হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বাজেট-ফ্রেন্ডলি গিফট বাক্সের মূল শক্তি হলো কম টাকায় সুন্দর ও অর্থবহ কিছু উপহার দেওয়া। এই ধরনের গিফট বাক্সে প্যাকেজিং সাধারণ হতে পারে, কিন্তু আইটেম বাছাই যদি ঠিক হয়, তাহলে গিফটটি দারুণ ইম্প্রেশন তৈরি করে।
কাস্টমাইজড বা পার্সোনালাইজড গিফট বাক্স
কাস্টমাইজড বা পার্সোনালাইজড গিফট বাক্স মানেই যে নাম লেখা থাকবে বা ছবি থাকবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের গিফট বাক্সে কোনো নির্দিষ্ট লেখা বা থিম নাও থাকতে পারে, কিন্তু ভেতরের আইটেমগুলো প্রাপকের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়া হয়।
যেমন, কেউ যদি বই পড়তে ভালোবাসে, তার জন্য বই-ভিত্তিক গিফট আইটেম রাখা হলো। কেউ যদি কফি বা স্কিন কেয়ারে আগ্রহী হয়, সেদিক অনুযায়ী আইটেম রাখা হলো। এতে গিফটটি খুব ব্যক্তিগত মনে হয় এবং প্রাপক বুঝতে পারে যে আপনি সত্যিই তার কথা ভেবে গিফটটি তৈরি করেছেন।
এই ধরনের গিফট বাক্স সাধারণত সবচেয়ে বেশি আবেগ তৈরি করে, কারণ এখানে দাম নয় ভাবনাটাই মুখ্য।
উপযুক্ত যাদের জন্য:
কাছের মানুষ, বেস্ট ফ্রেন্ড, কাপল গিফট, দীর্ঘদিনের পরিচিত কেউ।
থিম বা উপলক্ষভিত্তিক গিফট বাক্স
থিম বা উপলক্ষভিত্তিক গিফট বাক্স একটি নির্দিষ্ট সময় বা অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। যেমন জন্মদিন, ভালোবাসা দিবস, ঈদ, পূজা, নিউ ইয়ার বা অন্য কোনো বিশেষ দিন। এই ধরনের গিফট বাক্সে রঙ, ডিজাইন ও আইটেম সবকিছুই সেই উপলক্ষ অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভালোবাসা দিবসের গিফট বাক্সে সাধারণত লাল রঙ, চকলেট ও রোমান্টিক আইটেম বেশি থাকে। আবার ঈদের গিফট বাক্সে থাকে উৎসবমুখর সাজ, সুইটস বা লাইফস্টাইল আইটেম।
এই ধরনের গিফট বাক্স ট্রেন্ড ফলো করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্যও বেশ জনপ্রিয়।
উপযুক্ত যাদের জন্য:
উৎসব, স্পেশাল ডে, ট্রেন্ডি গিফট, সোশ্যাল মিডিয়া ফোকাসড গিফট।
গিফট বাক্সের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়?
অনেকেই মনে করেন গিফট বাক্সের দাম শুধু ভেতরের জিনিসের উপর নির্ভর করে। আসলে বাস্তবে বিষয়টা একটু আলাদা। বাংলাদেশে একটি গিফট বাক্সের দাম নির্ধারিত হয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরের উপর।
ভেতরের আইটেম ও তাদের মান
গিফট বাক্সের সবচেয়ে বড় খরচ আসে ভেতরের আইটেম থেকে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়
- চকলেট (লোকাল না ইম্পোর্টেড)
- পারফিউম বা বডি স্প্রে
- স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট
- ঘড়ি, ওয়ালেট, চাবির রিং
- ডায়েরি, ফটো ফ্রেম, ছোট এক্সেসরিজ
একই ধরনের গিফট বাক্স হলেও, আইটেমের ব্র্যান্ড ও কোয়ালিটি বদলালে দাম অনেকটা পার্থক্য হয়ে যায়।
প্যাকেজিং ও উপস্থাপনা খরচ
বাংলাদেশে এখন গিফটের ক্ষেত্রে প্রেজেন্টেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুন্দর বাক্স, রিবন, ট্রান্সপারেন্ট কভার, আর ভেতরের ফিলিং সব মিলিয়েই দাম বাড়ে।
সাধারণত:
- কার্ডবোর্ড বক্স → কম খরচ
- হার্ড বক্স / ম্যাগনেট বক্স → বেশি খরচ
- রিবন + ডেকোরেশন → অতিরিক্ত খরচ
অনেক সময় দেখা যায়, প্যাকেজিং ভালো হলে সাধারণ আইটেমও প্রিমিয়াম মনে হয়।
কাস্টম বা বিশেষ রিকোয়েস্ট এ দামের পার্থক্য
আপনি যদি বলেন
- নির্দিষ্ট রঙে গিফট চান
- নির্দিষ্ট টাইপের আইটেম চান
- আলাদা থিম চান
তাহলে সেটার জন্য আলাদা সময় ও কস্ট যোগ হয়। তাই কাস্টম রিকোয়েস্ট থাকলে দাম একটু বাড়ে এটা স্বাভাবিক।
বাজেট অনুযায়ী জনপ্রিয় গিফট বাক্স আইডিয়া (২০০–২০০০ টাকা)
গিফট বাক্স বাছাই করার সময় বাজেটই সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা। বাস্তবে বাংলাদেশে মানুষ সাধারণত বাজেট অনুযায়ী গিফট নির্বাচন করে, যাতে খরচের মধ্যে থেকেও উপহারটি সুন্দর ও অর্থবহ হয়। নিচে ২০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় গিফট বাক্স আইডিয়াগুলো দেওয়া হলো।
২০০–৫০০ টাকার গিফট বাক্স আইডিয়া
এই বাজেটটি মূলত স্টুডেন্ট, বন্ধু বা ছোটখাটো সারপ্রাইজের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। কম টাকার হলেও সঠিকভাবে সাজানো হলে এই রেঞ্জের গিফট বাক্স দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।
এই বাজেটে সাধারণত যা থাকে
২–৩টি ছোট চকলেট, একটি কিউট মগ বা চাবির রিং, একটি ছোট গ্রিটিং কার্ড এবং একটি সিম্পল বক্স।
উপযুক্ত: বন্ধু, ক্লাসমেট, ছোট ভাই বা বোন।
টিপস: আইটেম কম হলেও পরিষ্কার ও পরিপাটি সাজানো হলে গিফটের ভ্যালু অনেক বেড়ে যায়।
৫০০–১০০০ টাকার গিফট বাক্স আইডিয়া
বাংলাদেশে ৫০০–১০০০ টাকার গিফট বাক্স সবচেয়ে জনপ্রিয় বাজেট রেঞ্জ, কারণ এই দামে ভালো ভ্যারাইটি পাওয়া যায়। এই রেঞ্জে গিফট দিলে সেটি সাধারণ মনে হয় না, আবার খুব বেশি ব্যয়বহুলও নয়।
এই বাজেটে থাকতে পারে
ব্র্যান্ডেড চকলেট, বডি স্প্রে বা হালকা পারফিউম, নোটবুক বা ডায়েরি এবং তুলনামূলক সুন্দর বক্স।
উপযুক্ত: বেস্ট ফ্রেন্ড, জন্মদিন, ক্রাশ বা স্পেশাল কেউ।
এই রেঞ্জের গিফট সাধারণত দেখলেই বোঝা যায় যে উপহারটি ভেবে-চিন্তে দেওয়া হয়েছে।
১০০০–১৫০০ টাকার গিফট বাক্স আইডিয়া
এই বাজেট তখনই আসে, যখন প্রাপকের গুরুত্ব একটু বেশি। এই রেঞ্জে গিফট বাক্স সাধারণত প্রিমিয়াম ফিল দেয় এবং উপহারটি আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
এই বাজেটে পাওয়া যেতে পারে
ভালো মানের পারফিউম, ওয়ালেট বা ঘড়ি, স্কিন কেয়ার কম্বো এবং শক্ত হার্ড বক্স।
উপযুক্ত: প্রেমিক বা প্রেমিকা, খুব কাছের বন্ধু, এনিভার্সারি।
এই রেঞ্জের গিফট বাক্সকে সহজেই প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে রাখা যায়।
১৫০০–২০০০ টাকার গিফট বাক্স আইডিয়া
এই বাজেটটি মূলত স্পেশাল মোমেন্টের জন্য রাখা হয়, যেখানে আপনি প্রাপককে সত্যিই চমকে দিতে চান। এই রেঞ্জের গিফট বাক্স সাধারণত দেখতে খুব সুন্দর ও লাক্সারি হয়।
এই বাজেটে থাকতে পারে
ইম্পোর্টেড চকলেট, ব্র্যান্ডেড ঘড়ি বা পারফিউম, থিম অনুযায়ী একাধিক আইটেম এবং হাই-কোয়ালিটি ম্যাগনেট বক্স।
উপযুক্ত: প্রপোজ ডে, খুব স্পেশাল জন্মদিন, রিলেশনশিপের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
এই বাজেটে গিফট দিলে প্রাপকের মুখে “ওয়াও” রিঅ্যাকশন আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
গিফট বাক্স তৈরি করার পদ্ধতি (যা সবাই জানে না)
একটি ভালো গিফট বাক্স মানেই দামি জিনিসের সমাহার নয়। অনেক সময় কম বাজেটের গিফটও সঠিক আইডিয়া ও প্রেজেন্টেশনের কারণে অনেক বেশি ইম্প্রেশন তৈরি করে। গিফট বাক্স তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি কতটা চিন্তা করে গিফটটি সাজিয়েছেন।
নিচে এমন কিছু বাস্তব ও কাজের আইডিয়া দেওয়া হলো, যেগুলো অনেকেই জানে না বা গুরুত্ব দেয় না।
রঙ ও থিম মিলিয়ে নিন
গিফট বাক্সের রঙ ও থিম প্রাপকের উপর প্রথম ইম্প্রেশন তৈরি করে। বাংলাদেশে সাধারণত রঙের সাথে অনুভূতির একটা শক্ত সম্পর্ক আছে, তাই রঙ বাছাই ভুল হলে ভালো গিফটও অনেক সময় ফিকে মনে হয়।
সাধারণভাবে
- লাল বা কালো রঙ রোমান্টিক অনুভূতি প্রকাশ করে,
- সাদা বা প্যাস্টেল রঙ কিউট ও সফট ফিল দেয়,
- গোল্ড বা ব্রাউন রঙ প্রিমিয়াম ও এলিগেন্ট লুক তৈরি করে।
যাকে গিফট দিচ্ছেন তার বয়স, সম্পর্ক ও উপলক্ষ অনুযায়ী রঙ ও থিম মিলিয়ে নিলে গিফট বাক্স অনেক বেশি আকর্ষণীয় দেখায়।
কম আইটেম, কিন্তু মানসম্মত রাখুন
অনেকেই মনে করেন গিফট বাক্সে যত বেশি জিনিস থাকবে, তত ভালো। বাস্তবে বিষয়টা উল্টো। বর্তমান ইয়াং অডিয়েন্স এখন কোয়ালিটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়, কোয়ান্টিটিকে নয়।
একটি গিফট বাক্সে ২–৩টি ভালো মানের, ব্যবহারযোগ্য আইটেম থাকলে সেটি অনেক বেশি প্রিমিয়াম ও গোছানো লাগে।
বাস্তবে
৩টি ভালো জিনিস অনেক সময় ৭টি সাধারণ জিনিসের চেয়ে বেশি ভ্যালু তৈরি করে।
এই ধারণাটি এখন বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়।
একটি সারপ্রাইজ এলিমেন্ট রাখুন
গিফট বাক্সকে সত্যিকারের মনে রাখার মতো করতে হলে একটি ছোট সারপ্রাইজ এলিমেন্ট রাখা খুব কার্যকর। এটি এমন কিছু হতে পারে যা প্রাপক একদমই আশা করেনি।
যেমন
- একটি ছোট হাতে লেখা নোট,
- হঠাৎ পাওয়া একটি ছোট অতিরিক্ত গিফট,
- বা বাক্সের ভেতরে লুকানো কোনো আইটেম।
এই ছোট সারপ্রাইজগুলোই গিফট বাক্সকে শুধু “একটি উপহার” না বানিয়ে “একটি অনুভূতি”তে পরিণত করে।
ঘরে বসে গিফট বাক্স বানানোর সহজ গাইড (DIY)
অনেক সময় বাজারে পাওয়া গিফট বাক্স মন মতো হয় না, বা বাজেট একটু টাইট থাকে। এমন অবস্থায় নিজে হাতে গিফট বাক্স বানানো হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান। এতে খরচ কমে, আবার পার্সোনাল টাচও থাকে।
কী কী উপকরণ লাগবে
বাংলাদেশে খুব সহজেই পাওয়া যায় এমন জিনিস দিয়েই গিফট বাক্স বানানো যায়:
- একটি শক্ত বা মাঝারি সাইজের বাক্স
- রঙিন কাগজ বা র্যাপিং পেপার
- রিবন বা সুতা
- ছোট স্কচ টেপ / গাম
- সাজানোর জন্য স্টিকার বা ফুল
- ভেতরের গিফট আইটেম
👉 এগুলোর বেশিরভাগই নিউ মার্কেট, চাঁদনি চক, অনলাইন শপ বা লোকাল স্টেশনারি দোকানে পাওয়া যায়।
ধাপে ধাপে গিফট বাক্স বানানোর পদ্ধতি
ধাপ–১:
প্রথমে বাক্সটি পরিষ্কার করে নিন এবং বাইরে র্যাপিং পেপার দিয়ে সুন্দরভাবে মুড়ে নিন।
ধাপ–২:
ভেতরে নরম কাগজ বা ফিলিং দিন, যেন আইটেমগুলো নড়াচড়া না করে।
ধাপ–৩:
বড় আইটেম নিচে এবং ছোট আইটেম ওপরে রাখুন। এতে দেখতে ব্যালান্সড লাগে।
ধাপ–৪:
একটি ছোট নোট বা কার্ড যুক্ত করুন। এটি গিফটের সবচেয়ে ইমোশনাল অংশ।
ধাপ–৫:
শেষে রিবন দিয়ে বক্সটি সুন্দরভাবে বাঁধুন।
👉 মাত্র ৩০–৪৫ মিনিট সময়েই একটি সুন্দর DIY গিফট বাক্স তৈরি করা সম্ভব।
অনলাইনে গিফট বাক্স কেনার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
বাংলাদেশে অনলাইনে গিফট বাক্স কেনা সহজ ও জনপ্রিয় হলেও, কিছু বিষয় খেয়াল না রাখলে সমস্যা হতে পারে। নিচের পয়েন্টগুলো মনে রাখলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
১. পেজ বা শপের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন
গিফট অর্ডার দেওয়ার আগে অবশ্যই পেজ বা শপটি যাচাই করুন। বিশেষ করে লক্ষ্য করুন
- পেজে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে কিনা
- আগের কাস্টমারের রিভিউ বা কমেন্ট আছে কিনা
- রিয়েল প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও দেওয়া হয়েছে কিনা
👉 যেসব পেজ শুধু স্টক ছবি ব্যবহার করে এবং নিজের কাজ দেখায় না, সেগুলোতে অর্ডার দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
২. অগ্রিম পেমেন্টে সাবধান থাকুন
অনলাইনে গিফট কেনার সময় পুরো টাকা আগেই দিয়ে দেওয়া সবসময় নিরাপদ নয়।
চেষ্টা করুন
- ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশন নিতে
- অথবা অন্তত আংশিক পেমেন্টে অর্ডার কনফার্ম করতে
👉 বিশেষ করে ফেসবুক পেজ থেকে অর্ডার করলে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. ডেলিভারি টাইম আগে থেকেই ক্লিয়ার করে নিন
গিফট দেরিতে পৌঁছালে পুরো সারপ্রাইজটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অর্ডার দেওয়ার সময় জেনে নিন
- কত দিনের মধ্যে ডেলিভারি হবে
- আপনার এলাকায় ডেলিভারিতে কত সময় লাগতে পারে
- উৎসব বা ব্যস্ত সময়ে আলাদা সময় লাগবে কিনা
👉 সময় নিশ্চিত থাকলে পরে ঝামেলা বা হতাশা এড়ানো যায়।
সংক্ষেপে মনে রাখুন
- পেজ যাচাই না করে অর্ডার দেবেন না
- অগ্রিম পেমেন্টে তাড়াহুড়া করবেন না
- ডেলিভারি টাইম পরিষ্কার না হলে অর্ডার কনফার্ম করবেন না
এই পয়েন্টগুলো মাথায় রাখলে অনলাইনে গিফট বাক্স কেনা হবে অনেক বেশি নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত।
👉 আপনি প্রাপকের এক্সাক্ট পছন্দ না জানলেও, গিফট বাক্সে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
গিফট বাক্স কার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে?
গিফট বাক্স সবচেয়ে ভালো কাজ করে
- প্রেমিক / প্রেমিকা
- বেস্ট ফ্রেন্ড
- ভাই-বোন
- ক্লাসমেট
- অফিস কলিগ
বিশেষ করে যারা “কি গিফট দেব বুঝতে পারছি না” এই সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি সবচেয়ে সেফ অপশন।
গিফট বাক্স সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
গিফট বাক্স কী?
গিফট বাক্স হলো একটি সুন্দরভাবে সাজানো বাক্স যেখানে এক বা একাধিক উপহার একসাথে প্যাক করে দেওয়া হয়, যাতে উপহারটি দেখতে আকর্ষণীয় ও আবেগঘন হয়।
গিফট বাক্সের দাম কত?
বাংলাদেশে গিফট বাক্সের দাম সাধারণত ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে, যা ভেতরের আইটেম, প্যাকেজিং ও ডিজাইনের উপর নির্ভর করে।
কোন উপলক্ষে গিফট বাক্স দেওয়া যায়?
জন্মদিন, ভালোবাসা দিবস, ঈদ, পূজা, এনিভার্সারি, বন্ধুর সারপ্রাইজ বা কর্পোরেট গিফট সব উপলক্ষেই গিফট বাক্স উপযুক্ত।
কম বাজেটে কি ভালো গিফট বাক্স পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, ৩০০–৫০০ টাকার মধ্যেও চকলেট, মগ, কার্ড ও ছোট উপহার দিয়ে সুন্দর গিফট বাক্স তৈরি বা কেনা সম্ভব।
গিফট বাক্স ছেলে না মেয়ের জন্য?
গিফট বাক্স ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই দেওয়া যায়। শুধু ভেতরের আইটেম প্রাপকের পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করা উচিত।
অনলাইনে কিনব নাকি নিজে বানাব?
সময় কম হলে অনলাইনে কেনা ভালো। রাফানা তে রয়েছে রেডিমেট এবং কাস্টমাইজ গিফট বক্স তৈরি করে নেওয়ার সুজোগ। তবে পার্সোনাল টাচ দিতে চাইলে নিজে বানানো সবচেয়ে ভালো।
শেষ কথা
গিফট মানেই দামি কিছু নয়
গিফট মানে হলো ভাবনা, যত্ন আর অনুভূতি।
একটি সুন্দরভাবে সাজানো গিফট বাক্স খুব সহজেই বলতে পারে
“তুমি আমার কাছে স্পেশাল।”
আপনি যদি ২০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে এমন একটি গিফট খুঁজে থাকেন, যেটা নিরাপদ, সুন্দর এবং সবাই পছন্দ করবে । গিফট বাক্স নিঃসন্দেহে সেরা সিদ্ধান্ত।
